♦চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাঁপাছড়ি এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, অঙ্গীকারনামার শর্ত ভঙ্গ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবর দখলের হুমকির অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৪ ধারায় একটি সংবাদ/ স্পেশাল ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে।৷

ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, চাঁপাছড়ি এলাকার বাসিন্দা ও সাপ্তাহিক সিটিজি নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুল আবছার আনছারী অভিযোগ করেন যে, তার নামে সৃজিত নামজারি খতিয়ান নং-১৩৩৯ এর ৪ শতক সম্পত্তি বিক্রয়ের বিষয়ে ফরহানাজ বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে কথা হয়। গত ৮ মে ২০২৬ তারিখে ডায়রী দাতা সাংবাদিক নুরুল আবছার আনছারীকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। যেখানে ধার্যকৃত নির্ধারিত মূল্যে সম্পত্তি ক্রয় ও নির্দিষ্ট সময়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার শর্ত উল্লেখ ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী ফরহানাজ বেগম এক লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করলেও, পরবর্তীতে অঙ্গীকার নামায় উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখে বাকি অর্থ পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি গ্রহণ করেননি, ফলে বাদী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ব্যবসায়িক লেনদেনেও সমস্যার সম্মুখীন হন।

নুরুল আবছার আনছারী আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। গত ৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ফারহানাজ ডায়রী দাতার বসতবাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এসে অভিযুক্ত পক্ষ, ডায়েরি দাতাকে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন।

ডায়েরীতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা, অগ্নিসংযোগ কিংবা অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে তিনি নিজের, পরিবারের সদস্যদের ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ১৪ মে ২৬ ইং তারিখ ডায়েরি নং ৫৮৫ এবং ০৭ জুন ২৬ ইং তারিখ ডায়েরি নং ৬৮৯ দায়ের করেন।

ডায়রীর পূর্বে ডায়েরীদাতা একই বিষয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, ডিআইজি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলেও ডায়েরীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আদালতের নিকট প্রার্থনা করেন, তার দেওয়া সংবাদটি আদালতের সাধারণ ডায়েরি বহিতে সংরক্ষণ পূর্বক “ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ” করা হোক।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরহানাজ বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।