🟧 পরিবার ও স্বজনদের চাপের মুখে ভিকটিমের সাক্ষ্য দিতে না পারায় ক্ষোভ, এলাকাজুড়ে আলোচনা।
সিটিজি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলাস্থ চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গাল হালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা/রাজস্থলী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, আপন শালীর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র চার্জশীটভূক্ত (ইজ্জত নষ্টকারী) আসামী রিয়াজ উদ্দিন রানা (প্রকাশ রানা বৈদ্য) টাকার প্রভাব ও সামাজিক ক্ষমতার জোরে পার পাচ্ছেন —এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। মামলার ভিকটিম অভিযোগ করেছেন, নিজ পরিবারের সদস্যদের চাপ ও চোখ রাঙ্গানির কারণে, তিনি আদালতে যথাযথভাবে সাক্ষ্য দিতে পারছেন না। ভিকটিমের বোন/রানার স্ত্রী হুরে জান্নাত শিমু রাজস্থলী উপজেলাধীন শফিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মর্মে জানা যায়।

📰 ভিকটিমের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব:- ভিকটিমের বাবা শাফলাপুরের এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক মোজাহের ইসলাম, যার দুই মেয়ের দুই স্বামীর মধ্যে প্রকট দ্বন্ধ। যার কারণ এক মেয়ের স্বামী রিয়াজ উদ্দিন রানা কর্তৃক অপর মেয়ের ইজ্জত নষ্টের অভিযোগ। রানা ভিকটিমের দায়েরকৃত মামলার একমাত্র চার্জশীটভুক্ত আসামি।
ভিকটিম জানিয়েছেন, “আমি জানি আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আমার নিজের বাবা, বোন/রানার স্ত্রী, ভগ্নিপতিগণ ও স্বামী সবাই আমাকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে। তারা বলেছে—‘সাক্ষ্য দিলে সংসার ভেঙে যাবে।’ এখন আমি বুঝতে পারি না—সংসার বাঁচাব, নাকি অন্যায়ের বিচার চাইব?”
🗞️ এলাকাজুড়ে গুঞ্জন ও ক্ষোভ:- চট্টগ্রামের মহেশখালীস্থ শাফলাপুর এবং রাজস্থলী উপজেলার বাংগাল হালিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “রানা আর্থিকভাবে প্রভাবশালী; মামলা চললেও তাকে কেউ স্পর্শ করতে পারছে না।” তারা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে প্রভাব খাটানো হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় মামলার গতি থমকে গেছে। এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—চার্জশীটভুক্ত আসামি কি শুধু সাক্ষ্য না হওয়ার কারণে ছাড় পেয়ে যাবে?

⚖️ আইনি বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট:- বিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, কোনো ভিকটিম বা সাক্ষী যদি ভয়, চাপ বা প্রভাবের কারণে আদালতে সঠিকভাবে সাক্ষ্য দিতে না পারেন, তাহলে বিচার ব্যাহত হয়। (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জনৈক অ্যাডভোকেট বলেন, “চার্জশীট দাখিল মানে মামলার তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন আদালতে সাক্ষ্য না হলে আসামি সুবিধা নিতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিকটিমের নিরাপত্তা ও সাক্ষ্য প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

🗣️ প্রশাসনের অবস্থান:-
মামলাটি সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়টি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত, তাই মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।
🧭 সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া:- স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলা নয়—বরং ভিকটিম সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।
তাদের দাবি, “ভিকটিমকে নিরাপদ পরিবেশে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষভাবে সহযোগিতা করতে হবে।”

📌 উপসংহার:- ভিকটিমের আক্ষেপ— “সংসার রাখব নাকি ন্যায় বিচার চাইব?”—এখন মহেশখালীস্থ শাফলাপুরের বাসিন্দাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো,
চার্জশীটভুক্ত আসামি রানা বৈদ্য কি সত্যিই পার পাচ্ছেন? নাকি আদালত ও প্রশাসন ন্যায় বিচারের স্বার্থে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে—এই প্রশ্নই এখন সময়ের দাবি।
🗓️ [প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৫]