সিটিজি নিউজঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর বাসিন্দা মো. তৈয়ব শাহ অভিযোগ করেছেন, তার পাওনা টাকার মামলা থেকে বাঁচতে প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আরেকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় তিনি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে।

আবেদনপত্রে (তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫) তৈয়ব শাহ উল্লেখ করেন, তিনি মো. রাশেদুল আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ লাখ টাকা পাওনা থাকায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার পরেও রাশেদুল আলম টাকা পরিশোধ না করায় ১০ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে তিনি এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সি.আর মামলা নং ২১৭/২৫ দায়ের করেন, যা বর্তমানে ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম-এ বিচারাধীন।

তৈয়ব শাহের অভিযোগ, উক্ত মামলা দায়েরের পর বাদী রাশেদুল আলম তার বিরুদ্ধে পাল্টা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সি.আর মামলা নং ৮১৬/২৫ দায়ের করেন, যেখানে তাকে ও তার বড় ভাই মো. আবেদ শাহকে আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবির উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করছেন।তিনি বলেন, “বাদী ও তার সহযোগীরা মিথ্যা ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে একটি সম্পূর্ণ সাজানো মামলা করেছে, যাতে আমাদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতি হয়।”

আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিনি (তৈয়ব শাহ) তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭৪৩২৫৩৮৯১) থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি দাবি করেন, “এই মোবাইল নম্বর আমার নয়। সুতরাং ওই নম্বর থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ হাস্যকর।”
তৈয়ব শাহ আরও বলেন, “বাদীপক্ষ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। কললিস্ট বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

অভিযোগপত্রের সঙ্গে তিনি বাদীর স্বাক্ষরিত ২৫ লাখ টাকার চেকের ফটোকপি, লিগ্যাল নোটিশ, তার দায়ের করা মামলার নথিপত্র, মোবাইল কললিস্ট এবং বাদীপক্ষের মামলার কপিও সংযুক্ত করেছেন।
পুলিশ সুপারের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আবেদনটি প্রাপ্তির পর তা প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।








