বরগুনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীর কথা নিশ্চয়ই আপনাদের স্মরণে আছে, যিনি ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসে পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারার কারণে হাসিনার বিনা ভোটের এমপি দেবনাথ শম্ভুর সামনেই ছাত্রলীগের গুন্ডাবাহিনীকে পিটাইছিল।
পরদিন ১৬ আগস্ট একদিনের মাথায় উনাকে দুইবার বদলি করা হয়, এমনকি তাকে চাকরিচ্যুত করতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। যদিও পরে আর চাকরিচ্যুত করে নাই। ডিমোশান করা হয়।
তিনি ঢাকা মহানগরীতে থাকা অবস্থায় চুরি, ছিনতাই, খুন, রাহাজানি, মাদকদ্রব্য রোধকল্পে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য অসংখ্য পুরস্কারসহ আইজিপি ব্যাচ পেয়েছিলেন।
কর্মক্ষেত্রে সততা এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, যখন যেখানে কাজ করেছেন। এর জন্য সাধারণ জনগণের পাশাপাশি অফিসার ও ফোর্সগণ পছন্দ করতেন।
হলি আর্টিজানে গুলিবিদ্ধ সহকর্মীকে উদ্ধার করতে জীবন ঝুঁকি নেওয়ার ঘটনার পর উনার একাধিক সহকর্মী উনার সঙ্গে পূর্বে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছিলেন।
হলি আর্টিজানে ঘটনায় সেদিন এডিসি রবিউল গুলি খেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে কাতরাচ্ছিলো, তখন সাহস করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে এ মহরম আলীই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি তখন নববিবাহিত। ঘরে তার নয়া স্ত্রী। এরপরও নিজের পরিবারের কথা না ভেবে সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে দায়িত্বে বরখেলাপ করেননি। কমিটমেন্ট রক্ষা করেছেন।
আজকে ফেসবুক মেমোরিজে সেই ২০২২ সালের ঘটনাটি সামনে আসায় খোঁজ নিলাম উনি এখন কোথায় আছেন। দেখলাম ৫ আগস্ট পরবর্তীকালে উনাকে ঢাকায় শিফট করানো হয়। বর্তমানে উনি এন্টি টেররিজম ইউনিটে কাজ করছেন। জেনে ভালো লাগছে উনার মতো সাহসী পুলিশ অফিসারকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করেছে সরকার।